নভেম্বর ২৮, ২০২১

তিন দশকেও গড়ে উঠেনি কর্মমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান

তিন দশকেও গড়ে উঠেনি কর্মমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান

কুড়িগ্রাম বিসিক শিল্পনগরী
‘দেশের দরিদ্রতম জেলা কুড়িগ্রাম’ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ ও বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে। দেশের এ দরিদ্রতম এ জেলার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ৩১ বছর আগে প্রতিষ্ঠা করা হয় বিসিক শিল্পনগরী। তবে এখনও এ শিল্পনগরীতে গড়ে উঠেনি কর্মমুখী কোন শিল্পপ্রতিষ্ঠান। উদ্যোক্তা তৈরী না হওয়ায় হস্ত ও ক্ষুদ্রশিল্পের বিকাশ ঘটেনি এখানে। শুধুমাত্র একটি জুট প্রসেসিং মিলে তিন শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হলেও বাকীগুলোতে নেই তেমন কোন কাজের সুযোগ।

শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে জেলার একমাত্র শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিসিক শিল্পনগরী। এ নগরীতে ২০ একর জমির উপর ৪১টি ইউনিটের বিপরীতে ১৩৩ টি প্লট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ সকল ইউনিটে কর্মমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার শর্ত থাকলেও তার অধিকাংশই ব্যবহৃত হচ্ছে ব্যক্তিগত ব্যবসার কাজে। ফলে জেলার অর্থনীতিতে তেমন কোন ভূমিকা রাখতে পারছে না এ শিল্পনগরী। তবে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগীতা পেলে অনেক উদ্যোক্তাই এগিয়ে আসবেন বলে মনে করেন কুড়িগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আব্দুল আজিজ সরকার।

তিনি বলেন, ক্ষুদ্রশিল্প উদ্যোক্তাদের অনেক উৎসাহ আছে। কিন্তু তারা হোঁচট খাচ্ছে মুলধন সংকটের কারণে। এ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ব্যাংকের সাহায্য না পেয়ে উদ্যোগ নিতে পারছে না। এখানে তাঁতশিল্প, কুটিরশিল্প এবং হ্যান্ডিক্রাফট ছাড়াও অনান্য শিল্প রয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, উদ্যোক্তা অনেক। কিন্তু ব্যাংক তাদের সাহায্য করে না। এসকল ক্ষুদ্রশিল্প উদ্যোক্তা ব্যাংকের দ্বারস্থ হলে ব্যাংক তাদের নানা বাহানা দেয়। এবং ক্ষুদ্রশিল্প উদ্যোক্তাদের তারা কোন কিছুই দিতে চায় না। আমরা বার বার সেখানে প্রস্তাব পাঠিয়েও ব্যর্থ হয়েছি।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ক্ষুদ্রশিল্প উদ্যোক্তাদের যদি সহজ শর্তে ঋণ দেয়া যায় তাহলে কুড়িগ্রাম আরও নতুন নতুন হাজার হাজার ক্ষুদ্রশিল্প উদ্যোক্তা তৈরী হবে। এতে করে ভবিষ্যতে আর কোন মানুষ বেকার থাকবে না।
এদিকে প্রতিবছর শিল্পনগরীতে সার্ভিস চার্জ বাড়ানো হলেও রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

বহুমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে না উঠায় এখানে কাজের সুযোগ হয়েছে মাত্র ৫ শতাধিক শ্রমিকের। মিল চাতালের মতো প্রতিষ্ঠান থাকায় বছরের বেশীর সময় হাতে কাজ থাকে না তাদেরও।

দেশের পিছিয়ে পড়া এ জেলার একমাত্র শিল্পনগরীতে ক্ষুদ্র, কুটির ও হস্তশিল্পের প্রসার ঘটিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দ্রæত ব্যবস্থা নেবে সরকার এমনটাই প্রত্যাশা এখানকার মানুষের। তবে পুর্বের অবস্থা কাটিয়ে নতুন নতুন শিল্প উদ্যোক্তা তৈরীর মাধ্যমে এ শিল্পনগরীকে কর্মমুখী করে তোলার কথা জানান কুড়িগ্রাম বিসিক শিল্পনগরীর উপ-ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম।

তিনি বলেন, বিসিক শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যমান যে সকল সমস্যা ছিল উদ্যোক্তার ক্ষেত্রে তা বর্তমানে প্রায় সেই পূর্বের অবস্থানে নেই। অনেক উদ্যোক্তা আছেন যারা এখন নতুন করে পরিকল্পনা করছেন। আমাদের এখানে ৪১টি শিল্প ইউনিটের মধ্যে ৩৩টি শিল্প ইউনিট চালু আছে। এবং যে তিনটি রুগ্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান আছে সেগুলো খুব শীঘ্রই চালু হবে। এছাড়াও নির্মাণাধীন যে ৪টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান সেগুলিও খুব শীঘ্রই চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিসিক শুধু বিসিক শিল্পনগরী নিয়েই কাজ করে না, শিল্পনগরীর বাইরেও ক্ষুদ্র, কুটির, মাঝারী এবং হ্যান্ডিক্রাফট নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদেরকে নিয়েও আমরা কাজ করে যাচ্ছি। উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি এবং ঋণও বিতরণ করে যাচ্ছি।

আনন্দবাজার/এম.আর

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আজকের পত্রিকা
ই-পেপার
শেয়ার বাজার
পন্য বাজার