ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৩

চামড়া শিল্পনগরী সাভারে ১১টি প্লটের বরাদ্দ বাতিল

চলতি অর্থবছরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় সাভার চামড়া শিল্পনগরীর ১১টি প্লটের বরাদ্দ বাতিল করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। বিসিকের চুক্তি অনুযায়ী কারখানা নির্মাণসহ উৎপাদন কার্যক্রম শুরুতে ব্যর্থ হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের কাছ থেকে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার পর দীর্ঘ সময়েও ট্যানারি স্থাপন করা হয়নি। ইতিমধ্যে এসব প্লট বাতিলের বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে একাধিকবার সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়। কিন্তু কোন লাভ হয়নি।

গতকাল বুধবার বিসিকসহ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি ও বিভিন্ন অনিয়ম বিষয়ে কড়া বার্তা দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ব্যর্থ কর্মকর্তাদের বিষয়ে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।

সভায় চাষি পর্যায়ে নীরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত বিসিআইসিয়ের বাফার গুদাম নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়। গুণগতমান বজায় রেখে দ্রুত অবকাঠামো নির্মাণের স্বার্থে একই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিক নির্মাণ চুক্তি পরিহারের নির্দেশনা দেয়া হয়।

শিল্প প্রতিমন্ত্রী বলেন, ছোটো-খাটো কারণ দেখিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব করার প্রবণতা পরিহার করতে হবে। তিনি বিসিকসহ বিভিন্ন সংস্থার বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলো আকস্মিক পরিদর্শনের ব্যবস্থা করতে শিল্পসচিবকে নির্দেশ দেন। তিনি বিসিকের খালি প্লট প্রকৃত উদ্যোক্তাদের মাঝে দ্রুত বরাদ্দের পাশাপাশি বিসিআইসির বাফার গুদামগুলোর প্রকৃত মজুদ পরিস্থিতি নিরীক্ষা করার তাগিদ দেন। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের হেরফের পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেন।

সভায় শিল্পসচিব বলেন, যেসব কর্মকর্তা কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পের বাস্তবায়নে ব্যর্থ হবে, তাদেরকে বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনা হবে। বিগত অর্থবছরে ব্যর্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  আত্মগোপনের জন্য যশোর যেতে চেয়েছিলেন মুনিয়া

সভায় জানানো হয়, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সাভার চামড়া শিল্পনগরীর সিইটিপি নির্মাণ শেষ হবে। এ লক্ষ্যে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানও নিশ্চয়তা দিয়েছে মর্মে সভায় তথ্য প্রকাশ করা হয়। সভায় নভেম্বরের মধ্যে চলতি অর্থবছরের জন্য বিসিকের সব দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আগামী অর্থবছরের জন্য যাবতীয় দরপত্র প্রক্রিয়া জুন, ২০২০-এর মধ্যে সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়ন কোনো সমস্যা নয়। গুণগতমান বজায় রেখে স্বচ্ছতার সঙ্গে অর্থ খরচ করলে সরকার প্রয়োজনে আরো অর্থ বরাদ্দ দেবে।

উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিম, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থা ও করপোরেশনের প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকরা।

আনন্দবজার/ইউএসএস

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ই-পেপার
প্রথম পাতা
খবর
অর্থ-বাণিজ্য
শেয়ার বাজার
মতামত
বিশ্ব বাণিজ্য
ক্যারিয়ার
খেলার মাঠ
প্রযুক্তি বাজার
শিল্পাঞ্চল
পণ্যবাজার
সারাদেশ
শেষ পাতা