নভেম্বর ২৮, ২০২১

আম রফতানিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ

আম রপ্তানিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ

রাজশাহী, চাঁপাইনবাগঞ্জ কিংবা উত্তরাঞ্চলের আম দেশের গণ্ডি ছড়িয়ে বিশ্বব্যাপী পরিচিত পেলেও রফতানি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম সুস্বাদু ফল আম উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে সপ্তম স্থান দখলে রেখেছে দীর্ঘদিন ধরে। তবে বিপুল পরিমাণ উৎপাদন করেও নানা সংকট আর প্রতিবন্ধকতার কারণে রফতানিতে ক্ষেত্রে তেমন সুবিধা করতে পারছে না বাংলাদেশ। অথচ আমাদের চেয়ে কম পরিমাণ আম উৎপাদন করেও বহু দেশ রফতানি ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে।

রফতানি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশে বাংলাদেশের সুস্বাদু আমের কদর থাকলেও রফতানির ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধতা থাকায় সুবিধা করা যাচ্ছে না। এসব প্রতিবন্ধকতা কাটাতে পারলে রফতানির ক্ষেত্রে বড় সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। রফতানিকারকরা বলছেন, দেশে রফতানিযোগ্য উন্নত জাতের আমের অভাব রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় আমের জাতগুলোর শেলফ লাইফ অন্যদেশগুলোর আমের চেয়ে কম। এ কারণে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। পাশাপাশি মানসম্মত কৃষি পদ্ধতির চর্চা সেভাবে করা হয়না। আম সংগ্রহ বা বিপণন ক্ষেত্রে তেমন নজরদারি নেই। এর ওপর আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিংয়ের অভাবও রয়েছে। সবচেয়ে বড় যে সংকট, তা হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি আমের ব্রান্ডিং সংকট। এসব কারণে রফতানিতে সুফল পাচ্ছি না।

সূত্রমতে, গেল অর্থবছরে (২০২০-২১) বাংলাদেশ থেকে ফলটি রফতানির পরিমাণ ছিল মাত্র ৪০ হাজার ডলার। তবে চলতি (২০২১-২২) অর্থবছরের প্রথম তিন মাসেই রফতানির ক্ষেত্রে সুখবর পাওয়া গেছে। এ সময়ের মধ্যেই রফতানি হয়েছে ছয় লাখ ৬৪ হাজার ডলার। অথচ আগের অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ের মধ্যে সিঙ্গাপুরে ১০ হাজার ডলারের আম রফতানি করা হয়েছিল। তবে এবারে একই সময়ে সিঙ্গাপুর ছাড়াও এশিয়া এবং ইউরোপের আরও ১৪টির বেশি দেশে রফতানি হয়েছে।

বাংলাদেশে বছরে উৎপাদিত হয় ১৫ লাখের বেশি টন আম। তবে সে হিসাবে রফতানির পরিমাণ অতি নগণ্য। অথচ গেল বছরে (২০২০) থাইল্যান্ড বিশ্বের সর্বোচ্চ ৭৩ কোটি ৪০ লাখ ডলারের আম রফতানি করেছে। একইসময় বাংলাদেশের প্রতিবেশী ভারত ১৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার ও পাকিস্তান ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারের আম রফতানি করেছে।

রফতানিকারকরা বলছেন, গেল মৌসুমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে উপহার হিসেবে আম পাঠানোর খবর বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের আমের ব্রান্ডিং সৃষ্টিতে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে। সেই ঘটনার মধ্য দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশি আমের রফতানি অর্ডার বাড়তে থাকে। আর তাতেই আমের রফতানিবাজারে চমক সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ ফ্রটুস অ্যান্ড ভেজিটেবল এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা মনজুরুল ইসলাম আনন্দবাজারকে বলেন, ‘গতবছর বাংলাদেশ থেকে মাত্র দুই টন আম রপ্তানি হয়েছিল। এবছর ১৮শ টন আম রফতানি হয়েছে। যা বিরাট অর্জন। তিনি বলেন, আগে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের অতি সুস্বাদু আমের কোনো পরিচিতি ছিল না। এতে রফতানি অর্ডারও আগে মিলতো না। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত ও পাকিস্তানের সরকার প্রধানকে আম উপহার দেওয়ার খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও প্রচার পেয়েছে। এতে বাংলাদেশের আমের ব্রান্ডিং হওয়ায় এবছর রফতানি বেড়ে গেছে।

কৃষিপণ্যের রফতানিকারক নাজমুল হায়দার ভূইয়া ইতালি, সুইজারল্যান্ড ও লন্ডনে আম রপ্তানি করেছেন। তিনি এবছর হিমসাগর ও আম্রপালি জাত রপ্তানি করেছেন। আমের সর্বোচ্চ দাম পেয়েছেন কেজিপ্রতি ৪০০ টাকা। তিনি আনন্দবাজারকে বলেন, বাংলাদেশের আমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে ইউরোপের দেশগুলোতে। কিন্তু আমাদের রপ্তানি সক্ষমতা থাকলেও এয়ারলাইন্সের সমস্যার কারণে আমরা খুব বেশি রপ্তানি করতে পারিনি। পাকিস্তান এক লাখ টনের বেশি আম রপ্তানি করে। এয়ারলাইন্সের সমস্যা দূর হলে, আমরা বর্তমানের চেয়ে বেশি আম রপ্তানি করতে পারব।

গেল ২০২০-২১ অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি আম রফতানি হয়েছে ইতালি ও যুক্তরাজ্যে। ইতালিতে রফতানির পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ৮৯২ ডলার এবং যুক্তরাজ্যে ১২ হাজার ১০৫ ডলার। এছাড়া, নেদারল্যান্ডসে ৫ হাজার ৬১৫ ডলার, অস্ট্রিয়ায় ৫ হাজার ৩৯৮ ডলারের আম রপ্তানি করে বাংলাদেশ। তবে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাজ্যে ৫ লাখ ৬ হাজার ৪৮৭ ডলার এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭১ হাজার ৮৭৪ ডলারের রফতানি হয়েছে কুয়েতে।

আনন্দবাজার/শহক

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আজকের পত্রিকা
ই-পেপার
শেয়ার বাজার
পন্য বাজার