ডিসেম্বর ১, ২০২১

আবারও খেলাপি ঋণ ছাড়াল এক লাখ কোটি টাকা

আবারও খেলাপি ঋণ ছাড়াল এক লাখ কোটি টাকা

চলতি বছেরের সেপ্টেম্বর শেষ নাগাত ব্যাংকিং খাতের মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ এক হাজার ১৫০ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ৮ দশমিক ১২ শতাংশ। জুন শেষে খেলাপি ছিল ৯৯ হাজার ২০৫ কোটি টাকা। বিতরণকৃত ঋণের ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ খেলাপি ছিল সে সময়। অর্থাৎ খেলাপি ঋণ টাকার অঙ্কে বাড়লেও শতকরা হিসাবে কমেছে ০.০৬ শতাংশ।

বরাবরের মতো হালনাগাদ তথ্যেও দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ঋণের হার বেশি। বিপরীতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোতে তা কিছুটা কম।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস শেষে ব্যাংকিং খাতের মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ১৫০ কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ৮ দশমিক ১২ শতাংশ।

জুন পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ১২ লাখ ১৩ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ৯৯ হাজার ২০৫ কোটি টাকা। বিতরণকৃত ঋণের ৮ দশমিক ১৮ শতাংশ খেলাপি হয়ে গেছে। মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছিল ৩ হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা।

অর্থাৎ খেলাপি ঋণ টাকার অঙ্কে বাড়লেও শতকরা হিসাবে কমেছে ০.০৬ শতাংশ।

২০১৯ সালের মার্চ শেষে প্রথমবারের মতো অবলোপনের হিসাব বাদে খেলাপি ঋণ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে হয়ে যায় এক লাখ ১০ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা। তখন সরকার খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনর্গঠনের সুবিধা দেয়। এতে খেলাপি ঋণ এক লাফে কমে আসে ৮০ হাজার কোটি টাকার ঘরে।

আরও পড়ুনঃ  বেড়েছে তেল-চিনির দাম, স্বস্তি আলু-ডিমে

ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় খেলাপি ঋণ বাড়ছে বলে মনে করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বিসমিল্লাহ, হলমার্কসহ ব্যাংক খাতের একাধিক বড় ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু তাদের কোনো শাস্তি হয়নি। তদন্তের নামে দিনের পর দিন পার হয়ে যায়। এজন্য অন্য খেলাপি গ্রাহক মনে করে তারা যদি টাকা শোধ করতে না পারে তাদের কিছু হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাংকগুলো ভালোভাবে যাচাই-বাছাই না করে অনেককে ঋণ দেয়। খেলাপি ঋণের ঘাটতি পোষাতে সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার দেয়ার ফলে ব্যাংকগুলোর বদ্ধমূল ধারণা হয়েছে যে এ ধরনের সুবিধা সবসময়ই তাদের দেয়া হবে।’

আনন্দবাজার/এম.আর

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আজকের পত্রিকা
ই-পেপার
শেয়ার বাজার
পন্য বাজার