আগস্ট ১৯, ২০২২

গাছ টেন্ডারে অনিয়ম

আড়াই লাখে বিক্রি অর্ধকোটির গাছ

সেই টেন্ডার পক্রিয়া স্থগিত

মাদারীপুরের কালকিনিতে এলজিইডির অর্ধকোটি টাকার গাছ আড়াই লাখ টাকায় বিক্রয়ের অভিযোগ উঠেছে। ঠিকাদার ও কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ত্রিশ থেকে চল্লিশ বছর বয়সী এসব গাছের এত কম দামে বিক্রি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চলছে তীব্র ক্ষোভ। তবে, গাছের দাম নির্ধারণে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি বলে দাবি করেন গাছ নিলাম কমিটির সভাপতি ও কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

কালকিনি উপজেলা মালামাল/গাছ নিলাম কমিটি সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার চরদৌলত খান ইউনিয়নের শিকদারের মার্কেট থেকে চরফতে বাহাদুর উচ্চ বিদ্যালয় এলাকা পর্যন্ত এলজিইডি’র সড়ক সম্প্রসারণ করার প্রয়োজনে গত ১৩ জুলাই তারিখে কালকিনি উপজেলা ভূমি অফিস থেকে উপজেলা মালামাল/গাছ নিলাম কমিটি এ সড়কটির গাছ বিক্রয়ের নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রদান করে। চরদৌলত খান ইউনিয়নের এ সড়কটিতে নিলাম বিজ্ঞপ্তির আগে উপজেলা বন কর্মকর্তা ও উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলী ১১৭টি গাছের দাম গড়ে ২ হাজার ২১৩ টাকা করে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৯৮০ টাকা নির্ধারণ করেন। পরবর্তীতে গত ২৪ জুলাই নিলাম কমিটি গাছ নিলাম তুললে মাতুল মাতুব্বর নামে এক ঠিকাদার ওই টাকার বিপরীতে গাছ অপসারণের দায়িত্ব পায়। কিন্তু সড়কের অধিকাংশ মেহগনি গাছের বয়স ত্রিশ থেকে চল্লিশ বছরের মত হওয়ায় স্থানীয়রা এ গাছের দাম নির্ধারিত দামের চেয়ে বিশ থেকে ত্রিশ গুণ বেশি দাবি করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা চরফতেবাহাদুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হেমায়েত শিকদার বলেন, আমাদের এলাকার এ সড়কটিতে যে মেহগনি গাছগুলোকে কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমরা জেনেছি এ গাছগুলোকে একুশ’শ থেকে বাইশ’শ টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তবে, এ গাছগুলোর বয়স ত্রিশ থেকে চল্লিশ বছর। এগুলোর এক একটি গাছের দাম ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা। কোনো কোনো গাছের দাম এক লাখ টাকাও হবে। যারা এ গাছগুলোকে বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে কম দেখিয়ে নিজেরা লাভবান হচ্ছে। সে বন্ধ করে সরকারকে প্রকৃত রাজস্ব আয়ের সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

আরও পড়ুনঃ  গরুচোর আতংঙ্কে খামারি

এলাকার আরেক বাসিন্দা আব্বাস শিকদার বলেন, এ রোডে সরকারিভাবে ১১৭টি গাছের টেন্ডার হলেও কর্তৃপক্ষ প্রায় দুইশর বেশি গাছ বিক্রির জন্য নাম্বার লিখে দিয়ে গেছে। সেখানে আমাদের ব্যক্তিগতভাবে লাগানো গাছও রয়েছে। আমাদের লাগানো তাল গাছ, জারুল গাছও কেটে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সড়কের গাছগুলোকে পানির দরে বিক্রি করে কেউ কেউ ব্যক্তিগত ভাবে লাভববান হচ্ছে।

কালকিনি উপজেলা মালামাল ও গাছ নিলাম কমিটির নির্ধারিত ১১৭ টি গাছেরও বেশি গাছ সড়ক থেকে কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। ঠিকাদার মাতুল মাতুব্বর বলেন, আমরা সরকারের কাগজ অনুযায়ী গাছ কেটে নিচ্ছি। আপনেরা ভালো করে খোঁজ করে দেখেন কাগজের বাইরে আমরা কোনো গাছ কেটে নিচ্ছি না।

সড়কের পুরনো গাছ কম দামে বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মালামাল/গাছ নিলাম কমিটির সভাপতি পিংকী সাহা বলেন. সঠিক প্রক্রিয়ায় তারা সড়কটির গাছ নিলামে দিয়েছেন। এখানে কোনো অভিযোগের প্রশ্নই ওঠে না।

কালকিনি উপজেলার গাছ নিলাম কমিটিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সভাপতি, সহকারী ভূমি কমিশনার সদস্য সচিব এবং উপজেলা বন কর্মকর্তা ও উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী সদস্য হিসেবে রয়েছেন। স্থানীয়রা গাছ বিক্রিতে অনিয়ম তদন্ত সাপেক্ষে সড়কের গাছের প্রকৃত দাম নির্ধারণ করে সরকারের রাজস্ব বাড়ানোর দাবি করেন।

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published.

ই-পেপার
প্রথম পাতা
খবর
অর্থ-বাণিজ্য
শেয়ার বাজার
মতামত
বিশ্ব বাণিজ্য
ক্যারিয়ার
খেলার মাঠ
প্রযুক্তি বাজার
শিল্পাঞ্চল
পণ্যবাজার
সারাদেশ
শেষ পাতা