নভেম্বর ২৮, ২০২১

অর্ধশতকের রেকর্ড ভেঙেছে এবারের ধানের ফলন

অর্ধশতকের রেকর্ড ভেঙেছে এবারের ধানের ফলন

 লাভের মুখ দেখলেন বর্গাচাষীরাও

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় পুরোদমে শুরু হয়েছে আমন ধান কাটা-মাড়াই। ফলন ও ধানের দাম ভালো পাওয়া স্বস্তি ফিরেছে কৃষকদের মাঝে। এবার বর্গাচাষীরাও দেখছেন লাভের মুখ। কৃষি কর্মকর্তাদের দাবি, গেল ৫০ বছরের মধ্যে এবারই ধানের সর্বোচ্চ ফলন ও দাম পাচ্ছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে রানীনগরে প্রায় ১৮ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে স্বর্ণা-৫, বিআর ৪৯, বিনা-১৭, বিআর-৫১, বিআর-৮৮, বিআর-৭১, বিআর-৭৫ সহ আগাম ও মোটা জাতের ধান চাষ করা হয়েছে ৭ হাজার ২০৫ হেক্টর জমিতে। এছাড়া ১১ হাজার ৪৫৫ হেক্টর জমিতে চিনিআতপ ও চিকন জাতের ধানের আবাদ করেছেন কৃষকরা। ইতিমধ্যেই চিনিআতপ ধান কাটা-মাড়াই শুরু না হলেও মোটাজাতের ধানকাটা প্রায় শেষের দিকে।

কৃষকরা বলছেন, ধান রোপনের শুরু থেকে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় ধানের গাছ খুব ভাল হয়েছিলো। এ মৌসুমে হালচাষ থেকে শুরু করে রোপণ, আগাছানাশক, সার, পানি সেচসহ কাটা-মাড়াই পর্যন্ত বিঘা প্রতি প্রায় ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

বর্গাচাষীদের মতে, গৃহস্থ্যদের বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা খরচ হলেও বর্গাচাষীদের বাৎসরিক জমি ভাড়া বাবদ অতিরিক্ত ৬ থেকে ৭ হাজার টাকাসহ প্রায় ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিবিঘা জমিতে স্বর্ণা-৫ জাতের ধান ১৮ থেকে ২৪ মন পর্যন্ত ফলন হচ্ছে। এ জাতের ধান সোমবার উপজেলার ধানের মোকাম খ্যাত আবাদপুকুর বাজারে প্রতিমন সর্বোচ্চ ১০২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বিআর-৪৯ জাতের ধান বিঘা প্রতি ১৬ থেকে ২০ মন পর্যন্ত ফলন হচ্ছে। রকম ভেদে সর্বোচ্চ ১১৩০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ফলে গৃহস্থ্যরা অধিক পরিমানে লাভবান হলেও বর্গাচাষীরাও তেমন লাভ করতে না পারলেও লোকসান থেকে রেহায় পাচ্ছেন। আবার অনেকেই ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা লাভ করছেন।

উপজেলার ভেটি গ্রামের কৃষক দুলাল হোসেন, নারায়ন পাড়ার বছির আলী মিঠু, জলকৈ গ্রামের পলান চন্দ্রসহ অনেক কৃষকরা জানান, দীর্ঘ বছর পর এবার যেমন ধানের ফলন বেশি হচ্ছে, তেমনি কাটা-মাড়াইয়ের শুরুতেই আশানুরুপ ধানের ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে ধানের ভালো ফলন হলেও দাম পাওয়া যায়নি। আবার দাম ভালো থাকলেও ফলন পাওয়া যায়নি। ফলে আমন আবাদ করে বিশেষ করে বর্গাচাষীদের বিঘা প্রতি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা করে লোকসান হয়েছে। কিন্তু এবার ফলন এবং ভাল দাম পাওয়ায় বর্গাচাষীরাও লাভবান হচ্ছেন।

রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছরের তুলনায় এবার ধানের রোগ বালাই কম ছিলো। পাশাপাশি নুতুন জাতের ধানে ফলন বেশি হয়েছে। তিনি দাবি করে বলেন, গত ৫০ বছরের মধ্যে এবারই সর্বোচ্চ ফলন হয়েছে। পাশাপাশি কাটা-মাড়াইয়ের শুরুতেই বাজারে আশানুরুপ দাম পাওয়ায় লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা।

আনন্দবাজার/এম.আর

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আজকের পত্রিকা
ই-পেপার
শেয়ার বাজার
পন্য বাজার