ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৩

অপ্রচলিত বাজারে পোশাকখাত

অপ্রচলিত বাজারে পোশাকখাত
  • রপ্তানিতে আলো দেখাচ্ছে ১৭ নতুন দেশ
  • চার হাজার মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি

বাংলাদেশের পোশাকখাতের প্রচলিত বাজার ইউরোপ ও আমেরিকার বাইরে নতুন বাজারগুলো নতুন স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছে। প্রচলিত বাজারের বাইরে ১৭টি নতুন দেশে অন্তত চার হাজার মিলিয়ন ডলার পোশাক রপ্তানি হয়েছে। অপ্রচলিত এসব বাজার থেকে বাড়তি অর্ডার আসায় সার্বিকভাবে রপ্তানি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। আর এই পোশাক রপ্তানির ওপর ভর করে দেশের অর্থনীতিও জোর কদমে এগিয়ে চলেছে। মূলত, বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও ঈর্ষণীয়ভাবে বেড়েছে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বমন্দায় ইউরোপ-আমেরিকার ক্রেতারা পণ্য কেনা কমিয়ে দিলেও আলো হয়ে দাঁড়ায় অপ্রচলিত বাজার। রফতানিকারকরা বলছেন, প্রচলিত বাজার তথা ইউরোপ ও আমেরিকার বাইরে নতুন বাজারগুলো থেকে বাড়তি অর্ডার আসায় সার্বিকভাবে রফতানি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। আর এই পোশাক রফতানির ওপর ভর করে দেশের অর্থনীতিও জোর কদমে এগিয়ে চলেছে। পোশাক কারখানার মালিকরা বলছেন, আগে কারখানায় ইউরোপ-আমেরিকান বায়ারদের পণ্য তৈরি হতো। ইউক্রেন-রাশিয়া সংকট শুরুর পর অর্ডার কমে যায়। তবে ২০২২ সালে ভারত-জাপান কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মতো অপ্রচলিত বাজারে রফতানি করে ভালো আয় পাচ্ছেন তারা।

বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে সর্বশেষ যে পূর্বাভাস দিয়েছে, সেখানেও ভারত ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ায় ভালো অর্থনীতির দেশের তালিকায় সবার ওপরে রেখেছে বাংলাদেশকে। বিশ্বব্যাংক বলছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের ৫ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। যদিও পাকিস্তানে ২০২২-২৩ অর্থবছরে হবে ২ শতাংশ; ২০২৩-২৪ অর্থবছরে হতে পারে ৩ দশমিক ২ শতাংশ। ভুটানে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৪ দশমিক ১ শতাংশ, নেপালে ৫ দশমিক ১ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ নেগেটিভ (মাইনাস) প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি মনে করে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ভারতে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে; ২০২৩-২৪ অর্থবছরে হবে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ।

আরও পড়ুনঃ  মাটির নিচে বিদ্যুতের লাইন

সর্বোচ্চ আয় ডিসেম্বরে: চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ২৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে তৈরি পোশাক পণ্যের দাম ছিল ২৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ রফতানি আয়ের নতুন রেকর্ড অর্জনে সহায়তা করেছে তৈরি পোশাক খাত। একই সঙ্গে তা নভেম্বরে হওয়া রেকর্ডকেও ভেঙেছে। ডিসেম্বরে ৯ শতাংশের কিছু বেশি প্রবৃদ্ধি নিয়ে রফতানি হয়েছে ৫ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, যা একক মাসের হিসাবে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ।

পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি উচ্চ মূল্যের পোশাক অপেক্ষাকৃত বেশি হারে রফতানি হওয়া এবং চীনসহ প্রধান প্রতিযোগীদের তুলনায় বড় বাজারগুলো থেকে বেশি হারে রফতানি আদেশ পাওয়া ডিসেম্বরে রেকর্ড রফতানির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, সদ্য বিদায়ী বছরে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ থেকে ৪৫ হাজার ৭০৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের গার্মেন্টস পণ্য রফতানি হয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৩৫ হাজার ৮১১ মিলিয়ন ডলার। শুধু নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে আয় ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। তথ্য বলছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে ১২ হাজার ৬৬০ মিলিয়ন ডলার নিটওয়্যার এবং ১০ হাজার ৩৪০ ডলারের ওভেন পণ্য রফতানি হয়েছে। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের রফতানি খাতে এখন পর্যন্ত একক আধিপত্য ধরে রেখেছে তৈরি পোশাক খাত।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি ১৬ দশমিক ৬১ শতাংশ বেড়ে ১১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৯ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার। এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএর পরিচালক মো. মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ‌‘যদি ইউরোপীয় ইউনিয়নে আমাদের প্রধান রফতানি বাজারগুলোর দিকে লক্ষ করি, তাহলে দেখতে পাই জার্মানিতে আমাদের রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। চলতি ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে স্পেন এবং ফ্রান্সে আমাদের রফতানি যথাক্রমে ১৭ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং ৩৩ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার এবং ১ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।’

আরও পড়ুনঃ  ভাসানচর পৌঁছালো ২ হাজার রোহিঙ্গা

অন্যদিকে, উল্লেখিত সময়ের মধ্যে পোল্যান্ডে আমাদের রফতানি ১৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমেছে। মো. মহিউদ্দিন রুবেল আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের তৈরি পোশাক রফতানি ২০২২-২৩ সালের জুলাই-ডিসেম্বরে ৪ দশমিক ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যার প্রবৃদ্ধি গত বছরের একই সময়েরে তুলনায় মাত্র ১ দশমিক ১১ শতাংশ। একই সময়ে যুক্তরাজ্য ও কানাডায় রফতানি যথাক্রমে ১১ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং ২৮ দশমিক ৪২ শতাংশ বেড়ে ২ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার এবং ৭৭৪ দশমিক ১৬ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

বিজিএমইএর পরিচালক বলেন, প্রচলিত বাজারগুলো ছাড়াও অপ্রচলিত বাজারে আমাদের পোশাক রফতানি আগের বছরের একই সময়ের মধ্যে ৩২ দশমিক ১৯ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ৪ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে জাপানে রফতানি ৪২ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়ে ৭৫৪ দশমিক ৭২ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ভারতেও আমাদের রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে ৫০ শতাংশ বেড়েছে, যার পরিমাণ ৫৪৮ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন ডলার। পরিসংখ্যানে প্রধান দেশগুলোতে তৈরি পোশাক রফতানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও চলতি অর্থবছরের আগের মাসগুলোর তুলনায় প্রবৃদ্ধি কমেছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে আগামী মাসে প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেতে পারে। বিজিএমইএর সংকলন অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে রফতানি হওয়া পোশাকের অপ্রচলিত বাজার আটটি। ভারত, রাশিয়া, জাপানসহ বাজারগুলোর মধ্যে আছে অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, চিলি, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা।

আনন্দবাজার/শহক

Print Friendly, PDF & Email

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ই-পেপার
প্রথম পাতা
খবর
অর্থ-বাণিজ্য
শেয়ার বাজার
মতামত
বিশ্ব বাণিজ্য
ক্যারিয়ার
খেলার মাঠ
প্রযুক্তি বাজার
শিল্পাঞ্চল
পণ্যবাজার
সারাদেশ
শেষ পাতা